বাংলাদেশে পরকীয়া আইন
বাংলাদেশে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি আইনের ৪৯৭ ধারা অনুযায়ী পরকীয়া বা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক একটি ফৌজদারি অপরাধ, যা ২০২৪-২৫ সালের বাস্তবতায়ও কার্যকর রয়েছে। এই আইনে বিবাহিত নারীর সাথে অন্য পুরুষের শারীরিক সম্পর্ককে 'ব্যভিচার' হিসেবে গণ্য করে পুরুষ সঙ্গীর সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে, তবে নারী অপরাধী হিসেবে গণ্য হন না।
বাংলাদেশে পরকীয়া আইনের মূল দিকসমূহ
- অপরাধের পরিধি (৪৯৭ ধারা): শুধুমাত্র বিবাহিত নারীর সাথে অন্য পুরুষের শারীরিক সম্পর্কই এ আইনের আওতায় অপরাধ।
- শাস্তি: দোষী পুরুষ সঙ্গীর সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।
- নারীর দায়বদ্ধতা: আইনে স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বামী বা স্বামী পরকীয়া করলে স্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনত কোনো শাস্তির বিধান নেই।
- লিঙ্গ বৈষম্য ও রিট: এই আইনে নারী ও পুরুষের মধ্যে বৈষম্য থাকায় এটি বাতিলের জন্য উচ্চ আদালতে রিট বিচারাধীন রয়েছে।
অন্যান্য আইনি প্রতিকার:
- বিবাহ বিচ্ছেদ ও ভরণপোষণ: পরকীয়ার কারণে স্বামী-স্ত্রী চাইলে পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর অধীনে বিবাহ বিচ্ছেদ বা ভরণপোষণ দাবি করতে পারেন।
- অন্যান্য মামলা: অনেক ক্ষেত্রে পরকীয়ার শিকার পক্ষগুলো যৌতুক নিরোধ আইন বা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করে থাকেন।
দ্রষ্টব্য: এটি একটি চলমান সামাজিক ও আইনি বিতর্ক, যেখানে ৪৯৭ ধারা সংশোধনের দাবি দীর্ঘদিনের।
No comments